ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৌগাছায় তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২১ ২১:২৫:৪৯
চৌগাছায় তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি চৌগাছায় তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুরে অবস্থিত দেশের বৃহৎ তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারটি একসময় ছিল সম্ভাবনার প্রতীক। তবে বর্তমানে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় খামারটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশাল এই খামারের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের মঙ্গলবার অধিবেশনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তৃতা করেন তিনি। খামারটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং দেশের কৃষি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

১৯৮০ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খামারটির উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সরকার ও তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (ইইসি) আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির মোট আয়তন ৬৩ দশমিক ৭০ হেক্টর (প্রায় ১৫৭ একর)। এর মধ্যে গবেষণা, বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ফসল চাষ, বাগান, পুকুর, রাস্তা ও অবকাঠামোসহ নানা কাজে জমি ব্যবহার করা হলেও প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ হেক্টর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

খামারটিতে প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব কীটতত্ত্ব, মৃত্তিকা ও রোগতত্ব এই পাঁচটি ডিসিপ্লিনের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে আবাসিক সুবিধাসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০ জনকে থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই সহজেই একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।

খামারের পাশেই অবস্থিত চৌগাছার মর্জাদ বাওড়, যা মৎস্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এছাড়া খামারের পতিত জমিতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিষয়ক গবেষণাও চালানো যেতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

চৌগাছার সিনিয়র সাংবাদিক রহিদুল খান বলেন, যশোর একটি উন্মুক্ত কৃষি উৎপাদন এলাকা, যেখানে সারা বছর বিভিন্ন প্রজাতির ফসল উৎপাদন সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। তার মতে, জগদীশপুর তুলা খামারেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে সরকারের ব্যয় কম হবে এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যাবে।

খামারের ব্যবস্থাপক কর্টন এগ্রোনোমিস্ট যোবায়ের ইসলাম তালুকদার বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইনও একই মত পোষণ করে জানান, যশোর অঞ্চলের মাটি সব ধরনের ফসল উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এই এলাকায় কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ